মসজিদের দানবাক্স ভেঙ্গে ৮ লাখ ৪ হাজার টাকা চুরির চেষ্টা

0


শনিবার রাতে কিশোরগঞ্জের আলোচিত পাগলা মসজিদে দানবাক্স ভেঙ্গে বস্তায় ভরে টাকা চুরির চেষ্টা চালিয়েছে এক চুর। মুখোশ পরা একজন মসজিদে ঢুকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করলেও নৈশ প্রহরীরা সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে মসজিদটির মালখানার গ্রিল দান সিন্দুকের দুটি তালা কেটে সব টাকা টাকা বস্তায় ভরেন ওই মুখোশধারী। কিন্তু তিনি টাকা নিয়ে সটকে পড়তে পারেননি। এক পর্যায়ে মসজিদের সামনে নরসুন্দা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

রোববার (১৩মে) সকালে বস্তাভর্তি সেই টাকা কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেটের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হাকিম আবু তাহের মোহাম্মদ সাঈদ এর তত্ত্বাবধানে গণনা করা হয়। পরে সেই বস্তায় আট লাখ ৪ হাজার ৯৮১ টাকা পাওয়া যায়। এই টাকা গণনা করা হয় রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে।

হাকিম আবু তাহের মোহাম্মদ সাঈদ জানান, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে মুখোশ পরা এক জনর মসজিদের সিন্দুকের দুইটি তালা কেটে ফেলেন। আর সিন্দুকে জমা পড়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার একটি বড় ব্যাগে করে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

এসময় মসজিদের দুই নৈশ প্রহরী শরীফ ও মকবুল তাকে ধাওয়া করে। তখন মুখোশধারী ওই ব্যক্তি একজন প্রহরীকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। তখন আরেক জন প্রহরী তাকে ধাওয়া করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি টাকার ব্যাগ, রড় ও গ্রিল কাটার মেশিন ফেলে পালিয়ে যান। পরে টাকাগুলো রুপালী ব্যাংকে জমা করা হয়।

টাকা গণনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক ইমরান হাসান জানান, ঘটনার সময়ের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

উল্লেখ্য, পাগলা মসজিদে চারটি দান সিন্দুক রয়েছে। সেসব সিন্দুকে মাসে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা জমা পড়ে। গত ৩১ মার্চ মসজিদের দান সিন্দুকগুলো খোলা হয়। তখন ৮৪ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এর মাত্র দেড় মাসের মাথায় এই চুরির চেষ্টা ঘটল।

দানবাক্সে টাকা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রাও জমা পড়ে। এই টাকায় জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা, মসজিদ এবং দুঃস্থদের সহায়তা করা হয়। জেলা প্রশাসন এই কাজে তত্ত্বাবধান করেন।