Home » Blog » অপরাধ ও আইন » তাসফিয়ার পোশাক ও আদনানের মোবাইল যাচ্ছে সিআইডির ল্যাবে

তাসফিয়ার পোশাক ও আদনানের মোবাইল যাচ্ছে সিআইডির ল্যাবে


স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে তার বন্ধু আদনান মির্জাকে আরো সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। এছাড়া তাসফিয়ার ওই দিনের পোশাক এবং আদনানের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।

রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানানোর পাশাপাশি তাসফিয়ার পরনের পোশাক ও আদনানের মোবাইল ফোন সিআইডির ল্যাবে পাঠানোর অনুমতি চাওয়া হয়।

চট্টগ্রামের শিশু বিষয়ক আদালতের বিচারক পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস সিআইডির ল্যাবে পোশাক ও মোবাইল পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তবে রিমান্ডের বিষয়ে ৩১ মে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

তাসফিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মোহাম্মদ আমিন তাসফিয়ার ছেলেবন্ধু আদনান মির্জাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার আদনানকে আদালতের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্তু আদনান নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। এর পরও তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আদনান জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। তবে তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ জন্য আরো সাতদিনের রিমাণ্ড আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগে তাসফিয়া ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাসফিয়ার পরনের কাপড় সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে পরীক্ষা করলে আলামত পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া আদনানের দুটি মোবাইল ফোনও সিআইডির ল্যাবে পাঠানোর জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়।’ আর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাসফিয়াকে বহনকারী অটোরিকশার নম্বর এখনো শনাক্ত করা যায়নি।’

গত ১ মে বিকেলে তাসফিয়া তার ছেলেবন্ধু আদনান মির্জার সঙ্গে বেড়াতে বের হয়। পরে তারা গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে খেতে বসে। পরদিন ২ মে পতেঙ্গা সৈকত এলাকা থেকে তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাসফিয়ার বাবা মামলা করেন। পুলিশ আদনানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয় আদালতে। আদালত পুলিশের রিমান্ড মঞ্জুর না করে আদনানকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

প্রসঙ্গত, নিহত তাসফিয়া আমিন ইংরেজি মাধ্যম সানশাইন স্কুলের নবম শ্রেণি এবং তার বন্ধু আদনান মির্জা এলিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাসখানেক আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের বন্ধুত্ব হয়। ২ মে সকালে পতেঙ্গা ১৮ নম্বর ঘাট থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার হয়। দুপুরেই তাসফিয়ার পরিবার মরদেহটি তাসফিয়ার বলে শনাক্ত করে।

মন্তব্য করুন

এখানে মন্তব্য করুন